সিলেটে ফের বন্যা, বিভিন্ন উপজেলার ঘরবাড়ি পানির নিচে
টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। বেশিরভাগ নি¤œাঞ্চল তলিয়ে গেছে, তলিয়েগেছে ঘরবাড়ি। এরমধ্যে সুনামগঞ্জের তহিরপুর, ছাতক, সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাটসহ বেশ কিছু উপজেলার বাড়িঘরসহ রাস্তাঘাট তলিয়েগেছে। তবে, সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ২ তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যায় কবলিত।
ইতোমধ্যে সারী ও করিচ নদীর আশপাশের এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নদীর পানি উপচে পড়ায় জৈন্তাপুর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ ও গবাদী পশু গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। পানি বাড়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তাার। এসকল উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, মসজিদ, মন্দীরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তলিয়ে গেছে। অপর দিকে অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার চরিকাটা, ফতেপুর ও চিকনাগুল ইউনিয়নে বাড়ছে পাহাড় ধসের সংখ্যাও।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা ৬ টা পযন্ত সারী নদীর পানি বিপৎসীমার ০.৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট। জানা গেছে, বন্যা কবলিত এলাকা উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের মেঘলী, বন্দরহাটি, লামাপাড়া, ময়নাহাটি, জাঙ্গালহাটি, মজুমদার পাড়া, হর্নি, বাইরাখেল, তিলকৈপাড়া, বড়খেল, ফুলবাড়ী, ডিবিরহাওর, ঘিলাতৈল, হেলিরাই। জৈন্তাপুরসহ শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। সিলেট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১০ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সিলেটে প্রচুর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এরমধ্যে ১৭-১৯ জুন ভারী বর্ষণ হতে পারে। বাকি দিনগুলোতে থেমে থেমে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং ২৩ জুন পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে পারে।
ভাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিনসহ একাধিক লোকজন জানান, গত দু’দিন থেকে পরিবার নিয়ে গৃহহীন, নেই কোন খাবার ভেজা কাপড় পড়ে দিন কাটছে। গরু ও হাস মুরগী নিয়ে মহা বিপদে। যেখানে আশ্রয় নিয়েছি সেখানেও পানি উঠে যাচ্ছে। আমার এলাকা সহ আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে রান্না-বান্না সহ নানা সমস্যায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন তারা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার ত্রাণ সামগ্রী পাওয়া যায়নি।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল বশিরুল ইসলাম জানান, এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় বন্যায় বিপুল সংখ্যক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। অনেক আশশ্রয় কেন্দ্র পানির নিচে। জেলা থেকে ২৪ মেট্রিকটন চাল পেয়ে সেগুলো ইউপি চেয়ারম্যানদের নিকট হস্থাস্তর কেেরছন।
ডেসিস/জেকে/১৬জুন ২০২২ইং

IT Factory Bangladesh