প্রখর রোদেও বড়-বিলে দিনভর কী আনন্দ!
কাগজে কলমে নদী থকালেও নদী পথ নেই, খাল-বিল জলাশয় এবং হাওর থাকলেও আছে কেবল নামে। একমসয় সিলেটের সুরমা নদী থেকে নৌকাযোগে বিশ্বনাথের বাসিয়া নদী, খাজাঞ্চী নদী অথবা মাকুন্দা নদী পথ দিয়ে সহজেই যাতায়াত করা যেত। হাওর, জলাশয় ও নদীতে উৎসবের আমেজে বাওয়া হতো পলো। ধরা পড়তো বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ।কিন্তু এখন সে এক রুপ কথার গল্প।
দখল, দুষণ আর ভরাটের কারণে চীরচেনা গ্রাম বাংলার সেই ঐতিহ্যবাহী পলো বাইছ উৎসব কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে। কিন্তু তারপরেও আদিকাল থেকেই চীর চেনা সেই ঐতিহ্য ‘পলো বাওয়া’কে যুগযুগ ধরে উৎসব হিসেবে লালন করে আসছেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের বাসিন্দারা।
চিরায়ত বাংলার প্রাচীণ সেই ঐতিহ্যকে আজও ধরে রেখেন তারা। শনিবার (২০ আগস্ট) ভাদ্রের প্রখর রোদ আর বিলের পানিকে আলিঙ্গণ করে দিনভর গ্রামের ছেলে-বুড়ো সকলেই মেতেছিলেন পলো দিয়ে মাছ ধরায়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ছেলে-বুড়ো সকলেই ওই বিলে মাছ ধরায় মাতেন। তাদের মধ্যে কীযে আনন্দ বিরাজ করছিল সেটা অনেকেই ভাষায় প্রকাশ করতে পারেননি। সত্যিই আহা কী আনন্দ!।
সরেজমিন গোয়াহরি বিলে গিয়ে জানাগেছে, প্রায় দুইশ’ বছর আগে থেকে মাঘ মাসের প্রথমদিন গোয়াহরি গ্রামের বড়বিলে পলো বাওয়া উৎসব পালন করে আসছেন গ্রামবাসী। কিন্তু ভয়বহ বন্যার পর প্রচন্ড খরার কারণে এবছর পহেলা মাঘের সেই ‘পলো বাওয়া উৎসব’ পালন করতে হয়েছে ভাদ্র মাসের পাঁচ তারিখে। বিলের পাড়ে পুরুষ দর্শকের পাশাপাশি নারী দর্শকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়।
যদিও ‘পলো বাইছ’ কিন্তু পলো ছাড়াও, ঠেলা জাল, হাতা জালসহ আরও নানা বাহন দিয়ে মাছ ধরায় মেতেছিলেন গ্রামবাসী। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বোয়াল, শোল, রুই, কাতলা, গজার ও কার্ফসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশিও মাছ বেশি পাওয়ায় হাসি মুখে বাড়ি ফিরেছেন আব্দুল মিয়া, হাফিজ উল্লাহ, আরাফাত মো. আব্দুর রব, গোলাম হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, আরকান আলী, ইকবাল হোসেন, সাইদুর রহমানসহ গ্রামের অধিকাংশ লোকজন।
বিলের পাড়ে কথা হয় নাজমা বেগম নামের এক নারী দর্শকের সঙ্গে। তিনি বলেন, পলো দিয়ে মাছ ধরা তার বেশ পছন্দ, তাই বিলের পাড়ে আনন্দ উপভোগ করতেই তিনি এসেছেন।
গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাসিনুজ্জামান নুরু বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছেন মাঘ মাসের প্রথম তারিখে পলো বাওয়া উৎসব পালন করা হয়। কাকতালীয়ভাবে এ বছর তিনি তার মাকে দেখতে সম্প্রতি দেশে ফিরেন। আর সৌভাগ্য হিসেবে বিলের পাড়ে দাঁড়িয়ে পলো বাওয়া উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছন। এতে তিনি খুবই আনন্দিত।
গোয়াহরি গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন বলেন, প্রচন্ড খরার কারণে বিল শুকিয়ে যাবার কারণে এবার মাঘ মাসের আগেই পালন করা হয়েছে।
গ্রামের প্রবীণ মুরব্বী হাজী ছুরত খান বলেন, প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা এ উৎসব পালন করে আসছেন। তাই যুগেযুগে যেন এই ধারা অব্যাহত থাকে এটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।
ডেসিস/জেকে/ ২০ আগস্ট ২০২২ইং

IT Factory Bangladesh