রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৯ অপরাহ্ন

সিলেট



জাহাঙ্গীর আলম খায়ের

প্রকাশ: ২০২৩-০২-২২ ০৫:৪৭:২৩


চলে গেলেন ওসমানীর সহচর প্রাক্তণ এমপি নুরুল ইসলাম খান

ফাইল ছবি নুরুল ইসলাম খান

না ফেরার দেশে চলে গেলেন স্বাধীনতা পরবর্তি সিলেটের বিশ্বনাথ থানা আওয়ামী লীগের তৎকালীণ সিলেট-৭ (বিশ্বনাথ-দক্ষিণ সুরমা) আসনের প্রথম এমপি, মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক ও জাতীয় জনতা পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম খান।

তিনি বিশ্বনাথ পৌরশহরের শ্রীধরপুর গ্রামের মরহুম মোহাম্মদ ফিরুজ খানের ছেলে। মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫০মিনিটে সিলেট নগরীর উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, (ইন্না লিল্লাহি ...রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তাঁহার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী- ২ ছেলে, ২মেয়ে, নাতী-নাতনিসহ দেশে ও বিদেশে অসংখ্যু গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে শ্রীধরপুরসহ পুরো উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, বিশ্বনাথের শ্রীধরপুর গ্রামে ১৯৪৬ সালের ১৬ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালে তিনি রামসুন্দর অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৬৫ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে তিনি আইকম, ১৯৬৭ সালে মদনমোহন কলেজ থেকে বিকম পাশ করেন। এরপর ১৯৬৮ সালে তিনি ঢাকা ল কলেজ ভের্তি হন। তারপর ১৯৭৬ সালে ঢাকা সিটি ল কলেজ থেকে তিনি এলএলবি পাশ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ভালো গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন। লেখা পড়ার পাশাপাশি তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন এবং এমএ জি ওসমানীর মৃত্যুর পর জাতীয় জনতা পার্টির চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হন। তিনি ৬দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীণ সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তিনি অগ্রনী ভ‚মিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হবার পর তিনি বিশ্বনাথ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত একজন প্রার্থী হিসেবে তৎকালীণ সিলেট-৭ (বিশ্বনাথ-দক্ষিণ সুরমা) আসনে নির্বাচিত হন।

বিশ্বনাথের ইতিহাসে বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগের প্রথম এমপি হিসেবে নুরুল ইসলাম খান ওই সংসদের সর্বকনিষ্ট সংসদ সদস্য ছিলেন। এরপর ১৯৯১ সালের ১২জুন (পঞ্চম) এবং ১৯৯৬ সালের (সপ্তম) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ) আসনে তিনি জাতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন।

নুরুল ইসলাম খানের ভাতিজা ফখরুল ইসলাম খান এ প্রতিবেদককে বলেন, সিলেটের আম্বরখানার হাইজিংএস্টেট এলাকার শ্যামলী-মা ৬১ নং বাসায় বসবাসকারী তার চাচা দীর্ঘদিন থেকে বাধ্যক্যজনিত রোগে ভোগছিলেন। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মঙ্গলবার দুপুরে তার চাচা মারা যান।

তিনি জানান, ওইদিন (মঙ্গলবার) বাদ আছর প্রথমে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগা মসজিদে প্রথম জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দ্বিতীয় জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় রাত ৮টায় বিশ্বনাথ দারুল উলূম কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এবং তৃতীয় ও সর্বশেষ নামাজের জানাযা অনুষ্ঠিত হয় রাত ৯টায় তাঁর নিজ গ্রামের বাড়ি শ্রীধরপুরে। এরপর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, তিনি ছিলেন তৎকলীণ সময়ের বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগের প্রথম ও সর্বকনিষ্ট এমপি। তাঁর মৃত্যুতে সত্যিকার অর্থে আমরা একজন দেশপ্রেমিককে হারিয়েছি, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়েছি।


ডেসিস/জেকে/২২ফেব্রুয়ারি ২০২৩ইং

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Sidebar Google Ad Code