প্রভাষক শংকুরানীকে বিশ্বনাথ কলেজে না যাওয়ার আহবান কর্তৃপক্ষের
সিলেটের বিশ্বনাথ সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শংকু রানী সরকার, অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধে প্রায় ২ সপ্তাহ ধরে অচলাবস্থার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
কলেজ ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হওয়া দ্বন্ধ নিরসন না হওয়া পর্যন্ত প্রভাষক শংকু রানী সরকারকে কলেজে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১২মার্চ) কলেজে সংবাদ সম্মেলন ডেকে স্থানীয় সাংবাদিকদের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানালেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মানিক মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রভাষক শংকু রানী সরকার অতীত ইতিহাস ও বর্তমান কর্মকান্ড নিয়ে কলেজ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসির মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শংকু রানী কখনও ভুয়া আইনজীবি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক পরিচয়দানকারী, মানসিক ভারসাম্যহীনভাবে প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে বিশ্বনাথের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন।
গত দু’সপ্তাহ থেকে কলেজ ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত ৬মার্চ শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পসে তালা দিয়ে পরীক্ষা বর্জন করে।
এতে শংকু রানী জোর পূর্বক ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে তাৎক্ষনিক আমরা ইউএনও, পুলিশ ও শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা বসলে শংকু রানী উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তাঁর এমন আচরনে আন্দোলনরত ৭০০শিক্ষার্থী তার অপসারণের দাবি জানিয়ে গণস্বাক্ষর করে তাঁর নিকট (অধ্যক্ষ) অভিযোগ দেন।
এমন অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন ও প্রভাষক শংকু রানীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গত শনিবার (১১মার্চ) দুপুরে কলেজে বিশ্বনাথবাসীর উদ্যোগে এক বিশেষ সভার আয়োজন করেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মানিক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ ওই সভায় সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক এমপি শাফিকুর রহমান চৌধুরী, উপজেলার চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া, কলেজের প্রাক্ষণ অধ্যক্ষ সিরাজুল হক, তাপসী চক্রবর্তী, এনামুল হক, বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আসাদুজ্জানসহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রভাষক শংকুরানী সরকার যেন বিশ্বনাথ কলেজ ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ না করেন সে বিষয়ে ওই সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি তাকে জরুরী ভিত্তিত্বে লিখিতভাবে জানানো হবে বলেও জানান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মানিক মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনকালে কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল সহিদ, সহকারী অধ্যাপক মো. শরিফ উদ্দিন, প্রভাষক সোহাদুজ্জামান চৌধুরী, প্রভাষক সঞ্জিত কুমার সাহা রায় ও প্রভাষক রুকনুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
তবে, এ প্রসঙ্গে কথা বলতে বার বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও কলেজের প্রভাষক শংকুরানী সরকার ফোনকল রিসিভ করেননি।
বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী আতাউর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, কলেজের সার্বিক পরিস্থিতি যাতে শান্ত থাকে সে অনুযায়ী বিজ্ঞজনের উপস্থিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কলেজ কৃর্তপক্ষ। আর সকল বিষয়কেই তারা (পুলিশ) বিশেষ নজরদারিতে রেনখেছেন বলেও জানান তিনি।
ডেসিস/জেকে/১৩মার্চ ২০২৩ ইং

IT Factory Bangladesh