রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন

সিলেট



নিজস্ব প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২০২৩-০৫-১৭ ০৮:২৭:৩১


আমার সঙ্গে দিনে যারা ঘুরে, ছবি তুলে, রাতে তাদেরকে পুলিশ ধরে নিচ্ছে : মেয়র আরিফ

বক্তব্য রাখছেন মেয়র আরিফ

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বাসা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ মে) রাত ১০টার দিকে তাদের প্রত্যাহার করে নেয় জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়।

তবে, কোন প্রকার নেটিশ ছাড়াই প্রত্যাহার করায় এ নিয়ে তোলপাড় চলছে। সিলেটে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্খিত রয়েছেন মেয়র আরিফুল হক।

এ বিষয়ে বুধবার (১৭ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরভবনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

এসয় তিনি বলেন, তার ব্যক্তিগত ও বাসভবনের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের প্রত্যাহার করায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মেয়রের দাবি তাকে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার নানা চেষ্টা চলছে। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জনগণ থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করে তার বাসার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা ৬ জন আনসার বাহিনীর সদস্যকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সিলেটে নুতন যোগদান করা আনসার ও ভিডিপি কমান্ডার।

তিনি বলেন, মৌখিক বা লিখিতভাবে তাকে কোন কিছুাই জানানো হয়নি। অথচ গত ৬ বছর ধরে মাসিক বেতনের বিনিময়ে আনসার বাহিনীর ২৪ জন সদস্যকে নগরভবন ও তার (মেয়রের) বাসার অফিসসহ সিসিকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

আর মঙ্গলবার (১৬মে) রাতে হঠাৎ করে তার (মেয়রের) বাসা ও বাসা সংলগ্ন অফিসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৬ জনকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভ‚গছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রথম মেয়াদে মেয়র থাকাকালীন তাকে সরকার থেকে দু’জন গানম্যান দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরের মেয়াদে তাদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপর নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকায় মাসিক চুক্তিতে আনসার বাহিনীর ২৪ জন সদস্যকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য নিয়ে আসা হয়। সিডিউল করে সিসিকের পানি শোধনাগার ও যান্ত্রিক শাখাসহ (যেখানে সিসিকের বিভিন্ন গাড়ি ও মেশিন রাখা হয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা দিয়ে আসছেন তারা।

তাদের মধ্যে থেকে ৬ জনকে তার বাসা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে। কিন্তু গত মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করে এই ৬জনকে প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

এছাড়াও তার বাসা-সংলগ্ন অফিসে রাখা সিসিকের লাখ লাখ টাকার মালামাল এখন অনিরাপদ। এটা অতি উৎসাহী হয়ে এই বাহিনীর পক্ষ থেকে করা হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। প্রশাসনের অতি উৎসাহী কতিপয় কর্মকর্তার কর্মকান্ড খোদ সরকারকেও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার বাসার নিরাপত্তা-সদস্যদের কিন্তু সরকারের নির্দেশনায় প্রত্যাহার করা হয়নি বলে দাবিও করেন তিনি।

আগামী সিসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে উলেলখ করে আরিফ বলেন, সম্প্রতি তিনি মহানগরের যেখানে যাচ্ছেন এবং তার সঙ্গে যারা ছবি তুলছেন, দেখা যাচ্ছে রাতের বেলা তাদের পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কাউকে রিমান্ডে পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে

তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার পরও এমন করা হচ্ছে। মেয়র আরিফ প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমার বাসায় যদি এভাবে নিরাপত্তা দেওয়া আইনসিদ্ধ না হয় তবে দীর্ঘ ৬ বছর তারা কোথায় ছিলেন? আমি দেখছি—আমার নগরবাসী থেকে আমাকে দূরে রাখার সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি নগরবাসীর কাছে দোয়া চাই।

সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলার পর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ভবনের দেওয়ালে ফাটল ও বিভিন্ন ত্রæটির বিষয়টি তুলে ধরেন।

তবে, এ বিষয়ে আনসার ও ভিডিপির সিলেট জেলার কমান্ড্যান্ট আলী রেজা রাব্বি জানান, ৫বছর আগে নগর কর্তৃপক্ষ নগর ভবনের নিরাপত্তা দিতে আনসার নিয়েছিল। বাসা বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আনসার নেওয়া যায় না।

এর মধ্যে ৬জন আনসার সদস্য মেয়রের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও তার বাসভবনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছেন জানিয়ে বলেন, যোগদানের পর বিষয়টি জানতে পেরে নিয়মের মধ্যেই তিনি আনসারদের সরিয়ে নিয়েছেন।


ডেসিস/জেকে/১৭ মে ২০২৩ইং

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Sidebar Google Ad Code