রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন

সিলেট



নিজস্ব প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২০২৩-০৫-২৮ ০৫:৫৯:১২


সিলেটে ভাতিজাকে হত্যার দায়ে চাচির যাবজ্জীবন জেল

প্রতিকী ছবি

সিলেটের বিয়ানীবাজারে ভাতিজাকে (দেবরের ছেলে) হত্যার দায়ে সুরমা বেগম (৪১) নামের এক নারীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আসামীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

রোববার (২৮মে) সিলেটের জ্যেষ্ঠ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত সুরমা বেগম সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার উত্তর আকাখাজানা গ্রামের রুনু মিয়ার স্ত্রী।

আর নিহত সাড়ে ৩বছরের শিশু সাযেল আহমদ তার দেবরের ছেলে। ঐ রায়ে পেনাল কোডের আরেকটি ধারায় তাকে ৭ বছরের কারাদন্ড ১ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। উভয় সাজা একত্রে চলার নির্দেশনা দিয়েছেন বিচারক মশিউর রহমান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নিজাম উদ্দিন। তিনি জানান, একই মামলায় অপর ২ আসামি নাহিদুল ইসলাম ইব্রাহিম ও রুনু মিয়াকে খালাস দেয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানাগেছে, ২০২০ সালের ৭ জুন ভোরে মামলার বাদী বিয়ানীবাজারের উত্তর আকাখাজানা গ্রামের খসরু মিয়ার শিশু সন্তান আরিফ আহমদ (৫) ও সাড়ে ৩ বছরের সায়েল আহমদ আম কুড়াতে যায়। একপর্যায়ে চাচি সুরমা বেগমের ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ দেখে সবার কাছে বলে দেবে বলে জানায় শিশু সায়েল আহমদ।

তাই প্রমাণ না রাখতে শিশুটিকে হত্যার পর মরদেহ গুম করতে ঘরের বাথরুমে প্লাস্টিকের ড্রামে কম্বল দিয়ে মোড়ে রেখে দন চাচি সুরমা। ওই দিন সকাল ৭টার দিকে আরিফ ফিরলেও সায়েল ঘরে না ফেরায় তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পুকুরে জাল ফেলেও না পাওয়ায় সুরমা বেগমকে সাহেলের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তার কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হয়। এক পর্যায়ে সুরমা বেগমের ঘরের বাথরুমের ঐ প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে কম্বল মোড়ানো অবস্থায় সাহেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ সুরমা বেগমকে আটক করে।

এরপর পুলিশকে সুরমা বেগম জানান, অসামাজিক কার্যকলাপ দেখে সবার কাছে বলে দেয়ার কথা বলায় ভয়ে তিনি দেবরের ছেলে সায়েল আহমদকে হত্যা করেন এবং মরদেহ বাথরুমে প্লাস্টিকের ড্রামে কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে রাখেন।

এ ঘটনায় শিশু সায়েলের বাবা খসরু মিয়া ২০২০ সালের ৮ জুন সুরমা বেগম, তার পরকীয়া প্রেমিক নাহিদুল ইসলাম ইব্রাহিম ও স্বামী রুনু মিয়াকে আসামি করে হত্যা ও গুমের মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ৩ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। ২০২২ সালের ২৭ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি ও ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে রোববার বিচারক সুরমা বেগমের যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করেন।


ডেসিস/জেকে/২৮মে ২০২৩ইং

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Sidebar Google Ad Code