বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন

সিলেট



জাহাঙ্গীর আলম খায়ের

প্রকাশ: ২০২৩-০৭-০৬ ০২:৪৫:১৭


আনকন্ট্রোল টেনশনেই সিলেট কারাগারে মৃত্যু হয় হত্যা মামলার আসামি মাসুকের

ছবি মাসুক মিয়া

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক শেখ মো. গয়াছ উদ্দিন (৫২) হত্যা মামলার প্রধান ও চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি মাসুক মিয়া (৫৬) মারা গেছেন।

চিকিৎসকসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলছেন ‘আনকন্ট্রোল হাইপার টেনশন ও সাইড উইকনেছ’ রোগেই মারা যান তিনি।

তাদের দাবি, হত্যা মামলার চার্জশিটেও তাকে প্রধান রাখার কারণে কারাগাভোগকারী মাসুক মিয়ার হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ আরও বেড়ে যায়। এছাড়াও সাইড উইকনেছের (এক পাশে প্যরালাইছিছ) রোগীও ছিলেন তিনি। যেকারেণ আনকন্ট্রোল হয়ে পড়ে তার হাইপারটেনশন।

ফলে বুধবার (৬জুলাই) সকারে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎস্যাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ওইদিন বিকেল সাড়ে ৫টায় তার নিজ গ্রাম উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বরুণী গ্রামে জানাজার নামা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. সাখাওয়াত হোসেন এপ্রতিবেদককে বলেন, মাসুক মিয়া ‘আনকন্ট্রোল হাইপারটেনশন ও সাইড উইকনেছ’ এর রোগী ছিলেন।

গত ১জুলাই হঠাৎ করে ব্রেইনস্ট্রোক করলে কারাগার থেকে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ৬জুলাই বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জানাগেছে, আওয়ামী লীগ নেতা গয়াছ হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে ২০২২ সালের ৩জুন রাতে জগন্নাথপুর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ।

তিনি (মাসুক মিয়া) উপজেলার বরুণী গ্রামের মরহুম জমির আলীর ছেলে ও দশঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

আর শেখ মো. গয়াছ উদ্দিন একই গ্রামের বাসিন্দা। ২০২২সালের ২৮মে রাতে স্থানীয় পীরের বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে বরুণী গ্রামের নিজ বাড়ির পাশেই হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন শেখ গয়াছ উদ্দিন। এরপর টানা পাঁচদিন মৃত্যুরসঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর ২জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আওয়ামী লীগ নেতা গয়াছ।

ওইদিন রাতে নিহতের ছেলে মাজেদ আহমদ বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেন, (মামলা নং-২)। মামলায় অপর আওয়ামী লীগ নেতা একই গ্রামের বাসিন্দা মাসুক মিয়াকে প্রধান আসামি করে ২০জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৮জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়।

এরপর মামলার প্রেক্ষিতে মাসুক মিয়াকে জগন্নাথপুর থেকে আফজাল ও রুমেলকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর ওই বছরের ১৮জুলাই মামলাটি সিলেটের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করেন থানার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম। এরপর ডিবি পুলিশের এসআই মিজানুর রহমার মামলাটি তদন্ত করেন।

মামলার অপর ১০আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকার পর ২০২২সালের ৯আগস্ট সিলেট আদালতে হাজিরা দিলে তাদেরকেও জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

পরবর্তিতে ২০২২সালের ডিসেম্বর মাসে এজাহার নামীয় ২০জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয় সিলেটের ডিবি পুলিশ।

মাসুক মিয়ার ভাগিনা দাউদপুর গ্রামের মৃত রোশন মিয়ার ছেলে মজনু মিয়া জানান, হঠাৎ ব্রেইনস্ট্রোক করার পর কারাগার থেকে তার মামাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মামা মারা যান। ওইদিন বাদ আছর জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মামার লাশ দাফন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তৎকালীন মামলা তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান বলেন, গয়াছ হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ২০জন আসামিকেই অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।


ডেসিস/জেকে/৬জুলাই ২০২৩ইং

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Sidebar Google Ad Code