রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন

সিলেট



নিজস্ব প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২০২৩-১০-২১ ০৫:১৯:৩৫


বিশ্বনাথে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় দু’পক্ষে পাল্টাপাল্টি মামলা

আ’লীগ নেতা ও জেলা ছাত্রলীগ সম্পাদকসহ অভিযুক্ত ৮৭

ছবি, রাহেল সরিাজ ও আব্দুল আজিজ সুমন

প্রায় ২২দিন আগে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তি নিয়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী সভাপতি পার্থ-সরাথী দাস পাপ্পুসহ তার পক্ষের ৮জন আহত হন। আর তাদের প্রতিপক্ষ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা জাকির হোসেন মামুন পক্ষেও ২জন আহত হন।

এঘটনার ২১দিনের মাথায় দু’পক্ষে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছেন। উভয় পক্ষের মামলায় ৮৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

গত ১৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সিলেটের আমল গ্রহণকারী ৩নং আদালতে পাল্টা মামলা দায়ের করেন পার্র্থসারথী দাস পাপ্পু অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা রাজীব আহমদ (২৯)। তিনি হরিকলস (মজলিস ভোগশাইল) গ্রামের নোয়াব আলীর ছেলে।

তার দায়ের করা ‘বিশ্বনাথ সিআর ৪১৩/২০২৩’ নং মমালায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ-সম্পাদক রাহেল সিরাজ (২৯), বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিবহন শ্রমিক ঐক্য জোটের উপদেষ্ঠা আব্দুল আজিজ সুমনসহ (৩৮) ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

এর দুইদিন আগে গত ১৭ অক্টোবর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পার্থসারথী দাস পাপ্পু (৩৫), উপজেলা যুবলীগ নেতা রুহেল খান (৩৬), হুমায়ুন আহমদসহ (৪০) ৮ জনের নাম উল্লেখ করে একই আদালতে মামলা দায়ের করেন উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা জাকির হোসেন মামনুন পক্ষের ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ আহমদ রিপন (২২)। তিনি পৌরশহরের পাশর্^বর্তি জানাইয়া গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে।

তার দায়ের করা ‘ বিশ্বনাথ সিআর ৪০৯/২০২৩’ নং মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়েছে আরও ১৫জনকে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ।

এরপর ওইদিন বাদ আছর কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় আনন্দ মিছিল করেন উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা জাকির হোসেন মামুন পক্ষ। এরপর রাতে পার্থ-সারথী দাস পাপ্পু পাল্টা মিছিল দিতে চাইলে দু’পক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এরপর ওসমানীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান পিপিএম, থানার ওসি জাহিদুল ইসলামসহ একদল পুলিশ প্রায় ৩ঘন্টা মাঠে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এপ্রসঙ্গে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ বলেন, তিনি কারও পক্ষ নন। কেন্দ্রের নির্দেশে বিশ্বনা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

এরপর বিশ্বনাথে আনন্দ মিছিলও করা হয়। মমলায় তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদীতভাবে আসামি করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিবহন শ্রমিক ঐক্য জোটের উপদেষ্ঠা আব্দুল আজিজ সুমন বলেন, তিনিও কারও কোন পক্ষ নন। ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সময় তিনি তার বাড়িতে ছিলেন এবং মামলা সম্পর্কেও তিনি অবগত নন।

তাকেও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মামলার বাদী মাসুদ আহমদ রিপনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল গফুর ও অপর মামলার বাদী রাজীব আহমদের আইনজীবী অ্যাডেভোকেট রাজু ভৌমিক বলেন,

উভয় মামলাই আমলে নিয়ে আগামি ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠাতে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) দায়িত্ব দিয়েছেন বিচারক দিলরুবা ইয়াসমিন।

বিশ্বনাথ থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, মমলার কাগজপত্র পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা মতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।


ডেসিস/জেকে/ ২১ অক্টোবর ২০২৩ইং

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Sidebar Google Ad Code