সিলেটে এমপি মোকাব্বির ও চেয়ারম্যান নুনু ফের মুখোমুখি
৩৫/৪০ হাজার টাকা নিয়ে গভীর নলকূপ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে সিলেট-২ আসনের এমপি মোকাব্বির খান ও উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া। উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এমপির করা অনিয়মের অভিযোগ আজ মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) তদন্ত করার কথা রয়েছে। তদন্ত চলাকানীন সময়ে এমপি মোকাব্বির খান ও উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হতে পারে।
এমন আশংকার কথা সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার মধ্যে উপজেলার সর্বত্র চাউর হয়েগেছে। যে কারণে দু’পক্ষেই উত্তেজনা চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এর আগে ২০২০ সালের ১০ আগস্ট উপজেলা চেয়ারম্যান নুনু সমর্থকরা এমপি মোকাব্বির খানের গাড়িতে হামলা করেন। এরপর এমপির এপিএস অসিত রঞ্জন দেব বাদী হয়ে সিলেট আদালতে মামলা করেন। যা চলমান রয়েছে। ফলে তাদের মধ্যে এখনও দ্বন্ধ চলমান রয়েছে। আর এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও অভিযোগ ও অভিযোগের তদন্ত নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্ধ আরও চরমে পৌঁচেছে।
জানাগছে, ২০২১ সালের শেষের দিকে বিশ^নাথ উপজেলায় ‘নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে ৩৯ কোটি ৬লাখ ৫৮ টাকার একটি প্রকল্প বরাদ্দ পান উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া। ওই বরাদ্দ পেয়ে ২০২১ সালের ৫ডিসেম্বর তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ-সম্মেলনও করেন।
এর পর ওই প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম এবং ৩৫ থেকে ৪০হাজার টাকা নিয়ে টিউবওয়েল বরাদ্দ দিচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান নুন মিয়া। এমন অভিযোগ এনে ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের নিকট লিখিত অভিযোগ দেন এমপি মোকাব্বির খান। আর ওই অভিযোগটি সরেজমিন তদন্ত করতে মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল হাসান বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদে যাবার কথা রয়েছে। এক নোটিশের মাধ্যমে ওইদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় উপযুক্ত প্রমাণাদিসহ সংশ্লিষ্ঠ সকলকে তদন্তস্থলে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আর ওই তদন্ত নিয়ে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।
এব্যপারে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইুনচার্জ (ওসি) গাজী আতাউ রহমান বলেন, তদন্তের বিষয়টি শুনেছি, তবে অঘটনের কোন সংবাদ পাইনি। কিন্তু তারপরও আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওইদিন সকাল থেকে উপজেলা পরিষদে পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
এ প্রসঙ্গে কথা হলে উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, অভিযোগের কোন সত্যতা নেই আর তদন্তকালে অঘটন ঘটার কোন কারণও নেই। কেউ যদি অঘটন ঘটাতে চায় তাহলে তা প্রতিহত করা হবে।
এমপি মোকাব্বির খান এ প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান নুনু মিয়া অনেকের নিকট থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অনেক মানুষের মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে মন্ত্রীর কাছে তিনি ওই অভিযোগটি দিয়েছেন। আর অভিযোগের যতেষ্ট তথ্য প্রমাণও রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডেসিস/জেকে/২২ফেব্রুয়ারি ২০২২ইং

IT Factory Bangladesh