মাউতির বাঁধ ভেঙে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধান পানিতে
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওরের মাউতির বাঁধ ভেঙে সুনামগঞ্জের দিরাই, শাল্লা, নেত্রকোনার কালিয়াজুরি, মদন, কিশোগঞ্জের ইটনা এবং মিঠামইন উপজেলার হাজার হাজার কৃষকের ধান পানিতে তলিয়েগেছে।
এলাকাবাসীদের মতে, রোববার (২৪ এপ্রিল) ভোরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পিআইসি নির্মিত বাঁধটিতে ফাটল দেখা দেয়। পরে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকেতে থাকে।
কৃষকদের অভিযোগ, অকৃষক কৃপেন্দ্র দাসকে সভাপতি করে ২২ লাখ টাকার এই প্রকল্প দেওয়া হয়। পিআইসি সভাপতি কৃপেন্দ্র সিলেটে অবস্থান করেন। তিনি কৃষকও নন। তাই বাঁধের কাজে নানা দুর্বলতা ছিল। এই দুর্বলতার কারণেই বাঁধ ভেঙে হাওরের ধান তলিয়ে যাচ্ছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন শাল্লা উপজেলা সভাপতি তরুণ কান্তি দাস সাংবাদিকদের জানান, রোববার ভোরে মাউতির বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকছে। বাঁধ যেভাবে ভেঙেছে, এর আগে এভাবে কোনদিন বাঁধ ভাঙেনি। শনিবার সন্ধ্যায়ও কিছু লোক পিআইসির সভাপতি কৃপেন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ দাসকে বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে বলে জানান। কিন্তু তারা আমলে নেননি।
তরুণ জানান, হাওরের ৩০ ভাগ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে কৃষকের ৫০ ভাগ ক্ষতি হবে। কারণ তারা ধান কেটে ক্ষেতেই রেখেছিলেন। এই ধান তুলে আনার সময় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে হাজারো কৃষককে। ২দিনে হাওরে গলাসমান পানি হবে। এরপর অসহায় হয়ে যাবেন তারা।
তবে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব দাবি করেন, হাওরের ৯০ ভাগ ফসল কাটা শেষ। শনিবার রাত ১১ টায় কালবৈশাখী ঝড় হচ্ছিল। ওই সময় তদারকিতে কেউ না থাকায় বাঁধ ভেঙেছে। সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানিয়েছেন, বরাম হাওরের ৪ হাজারের মধ্যে ৩ হাজার হেক্টর জমির ধান বুধবার পর্যন্ত কাটা শেষ। পাঠার হাওরের ২০ হেক্টর জমির মধ্যে বেশিরভাগই কাটা শেষ। ২ হাওরেই এখনো ধান কাটা চলছে।
ডেসিস/জকে/ ২৪ এপ্রিল ২০২২ইং

IT Factory Bangladesh